ভিখারীর আত্মকাহিনী - প্রথম খন্ড

ভিখারীর আত্মকাহিনী
প্রথম খন্ড
রচনাকাল : ৮ শ্রাবন ১৩৮১ - ১৯ ভাদ্র ১৩৮২

চরপূর্বাভাস ও জন্ম (১১৫৮ - ১৩০৭)

ছবি ও জলের কল (১৩২২)

মুন্সি আহাম্মদ দেওয়ান (১৩২৩)

পলায়ন (১৩২৪)

মুন্সি আপছার উদ্দিন (১৩২৫)

আরবী শিক্ষায় উদ্যোগ (১৩২৬)

চিকিৎসা শিক্ষা (১৩৩০)

জীবন প্রবাহের গতি (১৩৩১)

ছুতার কাজ শিক্ষা (১৩৩১)

জরীপ কাজ শিক্ষা (১৩৩৩)

বস্ত্র বয়ন শিক্ষা (১৩৩৫)

উচ্চ শিক্ষার প্রচেষ্টা (১৩৩৫)

জাল বুনা শিক্ষা (১৩৩৬)

চরপূর্বাভাস ও জন্ম (১১৫৮ - ১৩০৭)

চরপূর্বাভাস ও জন্ম
(১১৫৮ - ১৩০৭)
শহর বরিশালের প্রায় ছয় মাইল উঃ পূঃ দিকে কীর্তন খেলা নদীর পশ্চিম তীরে চর বাড়ীয়া লামচরি” গ্রামটি অবস্থিত। সাধারণ্যে ইহা "লামচরি” নামে পরিচিত। গ্রামটির বয়স দেড়শত বছরের বেশী নয়। গ্রামটি ছিল খুবই নীচু, বছরের অধিকাংশ সময়ই থাকত জলমগ্ন। তাই এর নামকরণ হয়- “লামচরি" অর্থাৎ নীচু চর। এ গ্রামে লোকের বসবাস শুরু হয় মাত্র ১১৬২ সাল হতে। নবাগত বাসীদারা সমস্তই ছিলেন কৃষক। এই নবাগতদের মধ্যে একজন মধ্যবিত্ত কৃষক ছিলেন আমান উল্লাহ্ মাতুব্বর এবং তার তৃতীয় পুত্র এন্তাজ আলী মাতুব্বর আমার পিতা। মা বলেছেন আমার জন্ম ১৩০৭ সালের ৩রা পৌষ।

মুন্সি আহাম্মদ দেওয়ান (১৩২৩)

মুন্সি আহাম্মদ দেওয়ান (১৩২৩)
১৩২৩ সালে আমার জ্ঞাতি চাচা মহব্বত আলী মাতুব্বর সা’ব আহাম্মদ আলী দেওয়ান নামক ভাসান চর নিবাসী এক জন মুন্সি রেখে তার বাড়ীতে একটি মক্তব খোলেন। আমি ঐ মক্তবে ভর্তি হলাম। এখানে আমার পাঠ্য ছিল “মক্তব প্রাইমারি" নামক একখানা বই এবং গণিতে করণীয় ছিল মিশ্র চার নিয়মের অঙ্ক। কিন্তু আমার পাঠ্যপুস্তক খানার মাত্র "আট পৃষ্ঠা" পড়া এবং "মিশ্র যোগ" অঙ্ক কয়েকটি কষা হলে মক্তব বন্ধ করে দেওয়ান সাব দেশে গিয়ে আর ফিরে এলেন না। কিছুদিন পর খবর পাওয়া গেল যে, তিনি ইহধামে নেই। মক্তবটি উঠে গেল।

পলায়ন (১৩২৪)

পলায়ন (১৩২৪)
১৩২৩ সালে আমার ভগ্নিপতি আঃ হামিদ মোল্লা আমার সেজ ভগ্নীকে নেকাহ করে এসেছেন আমাদের সংসারে। তিনি এসে আমার নীলামী সম্পত্তিটুকু জমিদারের কাছ থেকে পুনঃ পত্তন গ্রহণ করলেন। কিন্তু জমির অর্ধেক কবুলিয়ত দিয়ে নিলেন তিনি তার মাতা মেহের জান বিবির বেনামীতে এবং অর্ধেক দিলেন আমাকে (নাবালক বিধায় আমি কবুলিয়ত দিতে না পারায়) আমার মাতার বেনামীতে। এ সময় তিনি আমাদের একান্ন ভূক্ত থেকে কৃষিকাজ করতেছিলেন। আমি তাঁর মাঠের কাজে সহায়তা না করে বেয়ারাপনা ও আনাড়ী কাজ করায় তিনি ছিলেন আমার উপর অত্যন্ত রুষ্ঠ ।

মুন্সি আপছার উদ্দিন (১৩২৫)

মুন্সি আপছার উদ্দিন (১৩২৫)

দক্ষিণ লামচরি নিবাসী পূর্বোক্ত কাজেম আলী সরদার সাব (তাঁর জামাতা) মুন্সি আপছার উদ্দিন নামক এক জন আলেম এনে তাঁর বাড়ীতে পুনঃ মক্তব খোল্লেন। মুন্সি সাব বাংলা ভাষা ভাল জানতেন না, তবে আরবী, ফারসী ও উর্দুতে ছিলেন সুপণ্ডিত এবং সুফিও। তার মত নিষ্ঠাবান নিষ্কাম সাধু পুরুষ আলেম সমাজে অল্পই আছেন। আমি তার মক্তবে ভর্তি হলাম না, তবে সকাল-সন্ধ্যায় তার কাছে গিয়ে আরবী ও উর্দু পড়তে শুরু করলাম (১৩২৫ সালের বৈশাখ মাসের শেষ ভাগ হতে) এবং পড়লাম-পবিত্র কোরান, রাহে নাজাত ও মেফ তাহুল জান্নাত নামক দুখানা কেতাব। নামাজদি দীনিয়াতের অত্যাবশ্যকীয় বিষয় সমূহ তার কাছেই শিক্ষা করলাম।